চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতার জন্য তিনটি প্রতিষ্টানই দায়ী -ওসমান জাহাঙ্গীর
https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEg9LVWVirpRGZ3nVfjgC7eB_FlZrPc7rQDghmRl-QUBbAeKlhsp9zKiyjvug_O7dIJ10DRhBsxnODDASx42shzEc9zp3KjOgq93FgqVKM-BgHfkbPtGLA2eU-gk_VdjfxX5ebqKM-Hfncg/s72-c/670.jpg
:আমরা যারা চট্টগ্রামে বসবাস করি নিজেদের চিন্তা ও অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার জন্য তিনটি কারণ ও তিনটি প্রতিষ্টানই দায়ী । জলাবদ্ধতার জন্য কারণ ১.ডাস্টবিন ব্যবস্থা,২. পয়;নিষ্কাশন ব্যবস্থা, ৩. জলাধার ধংস করে ইমারত নিমার্ণ বা জলাধার সৃষ্টি না করা , যে প্রতিষ্টান গুলো এই তিনটি কারণের জন্য দায়ী সে গুলো হচ্ছে স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্টান , সিটি কর্পোলেশন , ওয়াশা ও সিডিএ । কেন বা দায়ী করবো তার যথেষ্ট প্রমানাদি রয়েছে প্রথমে আসি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন :পৃথিবীর কোথায়ও আমাদের চট্টগ্রাম শহরের মতো খোলা ডাস্টবিন ব্যবস্থা নেই । নগর বলতে পরিচনতারœ বিষয়টি আগে আসে । খোলা ডাস্টবিন ব্যবস্থা পরিচন্ন নগর ব্যবস্থাপনাকে নষ্ট করে দেয়, বাসাবাড়ি থেকে ময়লা এসব ডাস্টবিনে ময়লা ফেলতে তেমন কেউ আসে না বরং ঘরের কাছে নালায় ময়লা ফেলতে দেখা যায় । ফলে নালার পানি চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয় । বিভিন্ন খাবার হোটেলের ময়লা বা সোসাইটির ময়লা ডাস্টবিনে ফেলে । ডাস্টবিন উপচে পড়া ময়লার গন্ধ এলাকার বায়ুবিয় পরিবেশকে দুষিত করে । তাই খোলা ডাস্টবিন ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়ে ময়লা ফেলার পদ্ধতি ও সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে হবে ।চট্টগ্রাম নগরীকে পরিচন্ন শহর করতে সিটি কর্পোরেশনকে উদ্যোগ নিতে হবে, খোলা ডাষ্টবিন বন্ধে করে সেবক দিয়ে প্রতিদিন বাসাবাড়ি থেকে নিদিষ্ট সময়ে ময়লা সংগ্রহ করতে হবে । ছোট গলিতে ছোট ভ্যান বড় রাস্তায় বড় ভ্যান দিয়ে ময়লা সংগ্রহ করা যাবে । বাসাবাড়ি, হোটেল এ নিদিষ্ট কালো পলিব্যাগ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক সরবরাহ করবে।সেই পলিব্যাগ সকালে সিটি কর্পোরেশনের সেবকের হাতে তুলে দিবে ।
এই প্রক্রিয়া শুরু করতে পারলে নালা
বা যত্রসত্র স্থানে ময়লা ,পলিথিন ফেলবেনা আর কেউ ।চট্টগ্রাম সিটি
কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগ মনে করছে মূলত নগরীর ৪১ ওয়ার্ডের
প্রত্যেকটিতেই গড়ে ৫ থেকে ৭টি পয়েন্ট রয়েছে যেসব পয়েন্ট জলাবদ্ধতার জন্য
দায়ী। এসব পয়েন্টে, অবৈধ দখলদাররা হয়তো খাল ও নালা দখল করে অবৈধ স্থাপনা
নির্মাণ করেছে যে কারণে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। আবার কোথাও কোথাও
কর্পোরেশনের বিদ্যমান নালাগুলো সরু। যে কারণে প্রবল বৃষ্টির সময় পানি
নিষ্কাশনে বিলম্ব হয়। ডাস্টবিনের পরিবর্তে নালা-নর্দমা ও ড্রেনে ময়লা
আবর্জনা ফেলে জ্যাম করে রাখার কারণেও বর্ষায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন
হয় না। যে কারণে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।পরিচ্ছন্ন বিভাগ নগরীকে
জলাবদ্ধতামুক্ত করতে অবৈধ দখল উচ্ছেদপূর্বক খাল ও নালা উদ্ধার করে খনন ও
সংস্কার করাসহ বিভিন্ন সুপারিশও করেছে। উল্লেখ্য যে চট্টগ্রামের শহরের
ভিতরে অন্যতম চাক্তাই খালের তলা পাকাকরন করে স্থায়ী ভাবে ভরাট করে ফেলেছে
খোদ সিটি কর্পোরেশন । পৃথিবীর কোন দেশে খালের তলা পাকাকরন করেছে আমার জানা
নাই । কেনই বা চাক্তাই খালের তলা পাকাকরন করেছে কোন ভাবে বোধগম্য নই
।ওয়াশার যে কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় তা হলো ওয়াশার সৃষ্টি পর থেকে এ
পর্যন্ত কোন সূয়েরেজ বা পয়:নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেনি এ প্রতিষ্টান ।১৯৬৫
সালে হালি শহরে পয়:নিষ্কাশনের জন্য জায়গা অধিগ্রহন করলেও কোন কাজে আসেনি ।
চট্টগ্রাম নগরীর বাসাবাড়ি পয়:নিষ্কাশনের ময়লা গুলো সিটি কর্পোরেশেনের
নালায় এসে পড়ছে।যেহেতু বাসাবাড়ি পয়:নিষ্কাশনের নল বা পাইপ নালার সাথে
সংযুক্ত সে কারনে পয়:নিষ্কাশনের ময়লা এসে নালা ভরাট হয়ে যায় ফলে
পয়:নিষ্কাশনের ময়লার জন্য জলবদ্ধতার অন্যতম একটি কারণ । এজন্য ওয়াশাকে
পয়:নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে ।জলাবদ্ধতার জন্য সিডিএ কেন দায়ী ? সিডিএ
চট্টগ্রাম শহরকে আধুনিক নগর করার দায়ীত্ব নিয়েছে তার এ দায় কোন ভাবে এড়াতে
পারে না । চট্টগ্রাম পাহাড় নদী সাগর প্রকৃতি প্রদত্ত একটি অঞ্চল ।প্রকৃতির
এই সম্পদ গুলোকে সিডিএ নষ্ট করে ফেলেছে । নগরীর ভিতরে খাল জলাধার নষ্ট করে
যত্রতত্র ইমারত নির্মানের অনুমোদন দিয়ে চট্টগ্রামকে আর্বজনার শহরে পরিনত
করেছে । ঢাকা শহরে ধানমন্ডি লেক,হাতিঝিলের মতো জলাধার সৃষ্টি করেছে । ফলে
ঢাকায় চট্টগ্রামের মতো জলবদ্ধতা নাই । চট্টগ্রামে শহরকে জলাবদ্ধতার থেকে
মুক্তি পেতে অবশ্য জলাধার সৃষ্টি করতে হবে সেই কাজটি সিডিএ করতে পারে ।
চট্টগ্রাম শহরকে আধুনিক নগর করতে স্থানীয় সরকারের এই তিন প্রতিষ্টানকে
সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে । তবেই জলাবদ্ধতা মুক্ত একটি গ্রীন সিটি করতে
পারবো । এই তিনটি প্রতিষ্টানকে গণমূখী প্রতিষ্টান করতে সুশিল সমাজকে এগিয়ে
আসতে হবে ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন