নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন এর জামিন বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্বান্ত ও কিছু নির্দেশনাঃ
https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiCSd59fFNy_9eTfygQiOvYqfHz9aGzwyuOZvK4ZS070MjNFwG-xmqKV6WEHaPB4MgouHR4903-xhBj52HgGlvi-3QWQVh6UOyopY3xtx0XtfUkXRAI0Rwi_048o_A-58NxUYH58j2K1jo/s72-c/wpid-rape1.jpg
সম্প্রতি মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ নারী শিশু আইন এর জামিন ও আরো কিছু বিষয়ে Md. Shahjahan and Others V. State (Criminal Miscellenous Case No. 18030 of 2014) মামলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত ও কিছু নির্দেশনা প্রদান করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিনের কিছু অস্পষ্টতা দূর করা হয়েছে বলা যায়। তার আগে বলে নিই কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত ও আগে কি কি বিষয় নিয়ে অস্পষ্টতা ছিল। আমরা সবাই জানি, নারী ও শিশু নির্যাতন বিষয়ে যখন কোন মামলা থানায় দায়ের হয় তখন থানা থেকে প্রথমেই মামলাটি ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে প্রেরন করা হয়। সেখানে একটি জি.আর. নং পড়ে আর আর মামলাটি চার্জশীট দাখিল করার পর বিচারের জন্য প্রস্তুত হলেই নথিটি ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে প্রেরন করা হতো। নথিটি ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে থাকা অবস্থায় এই আইনের অধীনে অভিযুক্ত সকল আসামীকে জামিনের জন্য (আগাম জামিন ছাড়া) প্রথমেই ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আবেদন করতে হতো। ম্যাজিষ্ট্রেট এই ক্ষেত্রে জামিন দিতে পারবে কিনা তা নিয়ে তৈরি হয় অস্পষ্টতা। কারণ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৯ ধারার বিধানমতে, ট্রাইব্যুনাল সন্তুষ্ট হলেই আসামীকে জামিন দিতে পারবে। ট্রাইব্যুনাল শব্দটি সুনির্দিষ্টভাবে লেখা থাকায় ও ক্ষমতা না থাকায় আসামীরা জামিন পাওয়ার মতো যথেষ্ট উপাদান থাকলেও ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতগুলো আসামীদের জামিন না দিয়ে হাজতে পাঠাত। পরে ম্যাজিষ্ট্রেটের আদেশের বিরুদ্ধে আসামীরা নারী ও শিশু আদালতে মিস মামলা করে ট্রাইব্যুনালে জামিনের আবেদন করতে হতো। এর মধ্যে অনেক নিরীহ, বয়োবৃদ্ধ নারী ও পুরুষ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা আবেদন শুনানী না হওয়া পর্যন্ত হাজতে থাকত।এর দরুন অচলাবস্থার সৃষ্টি হলে পরবর্তীতে Fazlur Rahman and Others Vs. The State [17 BLT (HCD) 192] মামলায় মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ একটি সিদ্ধান্ত দিয়ে বলে চার্জশীট দাখিল না হওয়া পর্যন্ত মামলাটি যতদিন জি.আর মামলা হিসাবে থাকবে ততদিন ম্যাজিষ্ট্রেট চাইলে জামিন দিতে পারবে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রাইব্যুনাল ও ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতগুলোর মধ্যে এক ধরনের ছোট খাট দ্বন্ধ তৈরি হয়।মানবিক কারনে জামিন দিলেও আইনজীবীদের সমালোচনা আর ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বিরক্তির কারনও হতো। এর ফলে ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতগুলো পারতপক্ষে জামিন দিত না। কিন্তু এর দরুন বিচারপ্রার্থী মানুষের ভোগান্তি মোটেই কমেনি। সর্বশেষ উপরের বর্নিত Crl Misc.-18030 of 2014 মামলায় মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ সিদ্ধান্ত দিয়েছে এখন থেকে থানায় মামলা হওয়ার পর জি.আর. মামলা হলে উক্ত মামলার নথি আর ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে যাবেনা তা সরাসরি নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করতে হবে জি.আর. ও কে ।শুধু এই সিদ্ধান্তই দেয়নি, এই নির্দেশনা পুলিশ বিভাগকে কার্যকর করতে ও নির্দেশনা দিয়েছে আদালত। এর ফলে সাধারণ মানুষ সরাসরি এখন ট্রাইব্যুনালে জামিন চাইতে পারবে বা নারী শিশু বিষয়ক যে কোন আবেদন সরাসরি ট্রাইব্যুনালে করতে পারবে। এর দরুন সাধারন মানুষের ভোগান্তি ও অনেক কমবে। যারা ফৌজদারী আইনের অধীনে প্র্যাকটিস করে তাদের জন্য এই সিদ্ধান্তটি জানা গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। আশা করি কয়েকদিনের মধ্যেই এর বাস্তবায়ন শুরু হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আমাদের আইনের ইতিহাসে এই প্রথম কোন জিআরও জেলা জজের নিকট সরাসরি নথি উপস্থাপনের সুযোগ পাবে।
সবার প্রতি শুভ কামনা রইল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন