জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণা

জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণা
https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgpW8xiScZ5_cEBQcNWGU8QH4GJSJzuEq_soNw9qKyfwlhTbyRO0FAiAI-7FLSwt52ZvzLbbUk-rcPkNR40PbY2owbkI0a_YmWyOJq2I9zZHZtF4X2UwPYrBItGBCFinTH7Yb0YxzUScmU/s72-c/index.jpeg
১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণা জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র গ্রহণ করেন এবং মানবাধিকার সংরক্ষনে অঙ্গীকার বদ্ধ হন। বিশ্লেষকদের মতে মানবাধিকারের এই দলিলটি বিশ শতকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল। কেননা এই দলিলের মাধ্যমে বিশ্বের সকল মানুষের অধিকারের কিছু দাবী আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোয় স্বীকৃতি লাভ করে বিধিবদ্ধ হয়েছে। মূলত: ১৯৪৫ সালের ৬ ও ৯ আগস্টে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহার করে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করে পৃথিবীর ইতিহাসের মানবাধিকার লংঘনের যে মহা ধ্বংসযজ্ঞ আমেরিকা চালায় তার প্রতিক্রিয়ার সূত্র ধরে ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা ও পরে ১৯৪৮ সালে ১০ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের তত্ত্বাবধানে সাবর্জনীন মানবাধিকার সংরক্ষনের যাত্রা শুরু হয়। তবে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় আজ থেকে ষাট বৎসর পূর্বে বিশ্বে সার্বজনীন মানবাধিকারের স্বীকৃতি এলেও তখন যে নাজুক অবস্থা বিশ্বে বিদ্যমান ছিল আজও তার তেমন পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয় না। তখন ও যেভাবে মানবাধিকার দেশে দেশে লংঘিত হয়েছে এখনো তেমনিভাবে দ্বিধাহীনচিত্তে লংঘিত হচ্ছে।
বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো অপেক্ষাকৃত দূর্বল দেশগুলোর মানবাধিকার সংরক্ষনে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উপদেশ ও নীতিমালা পেশ করছে বটে কিন্তু নিজ দেশ এবং ভিন্ন দেশে তাদের দ্বারা প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লংঘনের যে ভয়াবহ বিভীষিকা ছড়িয়ে পড়ছে তা অনেক বেশী ভয়ংঙ্কর ও মারাত্মক। মূলত: মানবাধিকার ঘোষনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ব ১৯৪৮ সালে যেমন ছিল ২০১০ সালেও তেমন রয়েছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে তার চেয়ে অবস্থার অবনতি হয়েছে। সুতরাং এমতাবস্থায় বিশ্বব্যাপী ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস পালন মানবাধিকারকে উপহাস ছাড়া আর কি হতে পারে?

মানবাধিকারের গোড়ার কথাঃ

আধুনিক সভ্যতায় মানবাধিকার অধিকতর গুরুত্ব পেলেও এর ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। গ্রীক দার্শনিকদের চিন্তাধারায় মানবাধিকার উম্মেচিত হয়েছিল যা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। গ্রীক দার্শনিক এ্যারিস্টোটেল, প্লেটো, প্রমুখের দর্শন তত্ত্বে মানবকল্যান এবং এই জন্য উপস্থাপিত নীতিমালা থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। রোমান আইন ছিল মানব সভ্যতার অন্যতম গর্ব। রোমান আইন শাস্ত্রবিদ সিসেরো, পলিবিয়াসদের প্রাকৃতিক আইনের ব্যাখ্যায় মানুষের অধিকারের চিত্র ফুটে উঠে। আধুনিক আইন বিজ্ঞান যে রোমান আইনের আধুনিকতম সংরক্ষন এই কথা সব আধুনিক আইনবিদ স্বীকার করতে বাধ্য। রোমান যুগে প্লেবিয়ানদের অত্যচার ও নির্যাতন থেকে মুক্তির জন্য জুরিস্টরা নতুন আইন প্রবর্তন করেন। বিশেষ করে দাস শ্রেনী সহ সমাজের নিম্ন শ্রেনীর মানুষের অত্যান্ত শোচনীয় অবস্থার মুক্তির জন্য সম্রাট জাষ্টিনিয়ানের মানবতাবাদী আইন প্রনয়ন মানবাধিকারের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।

সপ্তম শতাব্দীতে ইসলামের বদৌলতে প্রকৃত মানবাধিকারের গোড়াপত্তন হলেও কালের পরিক্রমায় দশম শতাব্দীতে এসে ইসলামের শ্বাশত মানবাধিকার সনদগুলো স্মৃতির পাতায় ঝাপসা হয়ে যায়। মানবাধিকারের ক্ষেত্রে ইসলামের প্রকৃত মর্মবাণী ভিন্ন ব্যাখ্যায় ভিন্ন আংগিকে উপস্থাপিত হয়ে ইতিহাসের গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এই প্রবন্ধের সমাপনীতে ইসলামের স্বর্ণযুগে মানবাধিকারের সার্বজনীন যে মৌলিক ঘোষণা তার একটি বিবরণ তুলে ধরার আশায় এই অনুচ্ছেদে সেটি এড়িয়ে গেলাম।

দ্বাদশ শতাব্দীতে ইউরোপে রেনেসাঁর যুগ থেকে মানবাধিকারের ধারণাটি শক্তিশালী হয়ে উঠে। নতুন রেনেসাঁর চিন্তা প্রবাহে ভীষণভাবে প্রণোদিত হয়ে রাজনৈতিক দার্শনিকরা একদিকে রাজশক্তির প্রচন্ডতা এবং অন্যদিকে খ্রীষ্টীয় চার্চের পোপদের সর্বগ্রাসী নিয়ন্ত্রন থেকে মানুষের মুক্তির উপায় খুঁজতে লাগলেন। এই ধারাবাহিকতায় বৃটেনে ১২১৫ সালের Magna Carta কে মৌলিক অধিকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিহাস সৃষ্টিকারী সনদ বলে মনে করা হয়। কিন্তু সাধারণ জনগনের সাথে এর কোন সম্পর্কই ছিল না। কারণ এটা Barons দের স্বার্থ সংরক্ষনে রাজার সাথে কৃত একটি চুক্তি ছিল। এরপর মৌলিক মানবাধিকার আন্দোলনের সুচনা ঘটে বৃটেনের রাজা কনরাড যখন একটি ফরমান বলে parliament এর ক্ষমতা নির্ধারন করেন। ১৩৫৫ সালে একে বৃটিশ পার্লামেন্টে Megna carta স্বীকৃতি দেয়া হয় এবং বিনা বিচারে কাউকে সম্পত্তি হতে উচ্ছেদ, শাস্তি প্রদান বা মৃত্যুদন্ড দেয়া নিষিদ্ধ করা হয়। চতুর্দশ থেকে ষোড়শ শতাব্দীতে ম্যাকিয়াভেলির স্বৈরতন্ত্রের জয়জয়কারে মানবাধিকার আন্দোলন কিছুটা ঝিমিয়ে যায়। সপ্তদশ শতাব্দীতে এই আন্দোলন পুণরায় চাঙ্গা হয় এবং যার ফলশ্রূতিতে ১৬২৮ সালের Pitition of Rights ১৬৭৯ সালের arbitrary arrest বা detention জনগণকে নিরাপত্তা দেয়। ১৬৮৯ সালে Bill of Rights মানবাধিকারের ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসাবে বিবেচিত হয়। লর্ড এবটোনের ভাষায় এটি ইংরেজ জাতির মহত্তম অবদান। এ প্রসঙ্গেElder William Pitt বলেন Megna carta the pitition of Rights and the Bill of Rights are the Bible of the British constitution.
উপরোক্ত আইন দ্বারা মৌলিক অধিকারকে সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয়। এবং Ges 1. trail by jury 2. freedom from (i) cruel punishment, 2. excessive fine, 3. excessive bail ইত্যাদি নিশ্চিত করা হয়। ১৭৭৬ সালে আমেরিকায় vurginia তে সেখানকার বিপ্লবীরা Bill of Rights পাশ করে। এতে বলা হয় all man are by nature fully free and independent and have certain rights namely.

Related program you might see:

Share this Program :

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 
Support : Creating Website | Kutubi Template | Kutubi Template
Copyright © 2011. thrb - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Kutubi Template
Proudly powered by Trust of Human Rights Bangladesh